খাসকামরায় ডেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর: বিচারককে শোকজ

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
খাসকামরায় ডেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর: বিচারককে শোকজ

নিজ খাসকামরায় ডেকে নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

এর আগে বিচারকের খাসকামরায় মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ তোলেন ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ ও পুলিশ প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

বুধবার ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ডাবলু এবং ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী। প্রতিনিধিদলটি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলে আইনমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঘটনার সূত্রপাত:  
ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া এসআই মোহাম্মদ আলীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। রুটিন নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে বিচারক শাহিদুল ইসলামের অফিস সহকারী (পিয়ন) সাকিব আল হাসানের ব্যাগ তল্লাশি করতে চান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। 

এ সময় সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেলওয়ে থানায় নেওয়া হলে তিনি নিজেকে বিচারকের আদালতের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিচারকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে থানা থেকে যাওয়ার সময় সাকিব ‘আদালতে দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এসআই মোহাম্মদ আলী।

খাসকামরায় মারধরের অভিযোগ:
অভিযোগে বলা হয়, জিডির বিষয়টি অবগত হওয়ার পর গত ৩১ আগস্ট ঢাকা রেলওয়ে থানার আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এসআই মোহাম্মদ আলীকে তলব করেন এবং বিষয়টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের সঙ্গে বসে মীমাংসা করে নিতে পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই আদালতে যান এসআই মোহাম্মদ আলী।

লিখিত অভিযোগে এসআই আলী জানান, তাকে বিচারকের খাসকামরায় নেওয়ার পর ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে বিচারকের উপস্থিতিতেই আদালতের ওমেদারসহ তিনজন তার ওপর চড়াও হন এবং পেছন থেকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পুরো ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এসআই আলীর দাবি, বিচারক নিজেও তার সঙ্গে অত্যন্ত অবমাননাকর ও রূঢ় আচরণ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিচারক শাহিদুল ইসলামের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্মচারী সাকিবের পালটা দাবি:  
তবে বিচারকের অফিস সহকারী সাকিব আল হাসান পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার দিন প্ল্যাটফর্মে অযৌক্তিকভাবে তার ব্যাগে হাত দেওয়া হয়েছিল। নিজেকে আদালতের কর্মচারী পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে রেলওয়ে থানায় নিয়ে এসআই মোহাম্মদ আলী চড়-থাপ্পড় মারেন এবং বিচারকের সঙ্গেও টেলিফোনে অপেশাদার আচরণ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।