‘নবীন ফ্যাশন’ বন্ধে ওসিকে শোকজ
রাজধানীর মগবাজারে ন্যায্যমূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রির দায়ে ‘নবীন ফ্যাশন’ নামে একটি শোরুম জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় চরম গাফিলতি ও নীরব ভূমিকা পালন করায় হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকানটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই মগবাজারের বিশাল সেন্টারে একদল লোক উশৃঙ্খল আচরণ করে দোকানটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের এমন পেশাদারিত্ববিরোধী ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওসিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ। ‘নবীন ফ্যাশন’-এ মাত্র ৩০০ টাকায় মানসম্মত পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি শুরু হলে আশপাশের ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি না করার জন্য অলিখিত চাপ দেয়। তাদের দাবি ছিল, এই দামে পণ্য বিক্রি করা বাজারে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিপন্থী। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে পুলিশের সহায়তায় দোকানটি জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন জানান, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র মানুষের সেবায় লভ্যাংশ ব্যয় করাই ছিল তাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাপের মুখে এবং প্রাণনাশের হুমকিতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পরই দেশত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। দেশ ছাড়ার আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব—ইনশা আল্লাহ।”
উল্লেখ্য, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে সিন্ডিকেটের হুমকি ও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়ে একজন উদ্যোক্তার দেশত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালত এখন এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদারকি শুরু করায় সাধারণ মানুষ কিছুটা আশান্বিত বোধ করছেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ