রামপুরায় ভবনে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি, রায় ঘোষণা আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 4, 2026 - 11:54
রামপুরায় ভবনে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি, রায় ঘোষণা আজ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল দেশবাসী। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক যুবককে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার (৪ মার্চ)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এ মামলার প্রধান আসামি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। অন্য আসামিরা হলেন— ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিঞ্চার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন গত ২৯ জানুয়ারি শুনানির সময় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে পুলিশ ও বিজিবির ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আমির হোসেন। হোটেল কর্ম শেষে ফুফুর বাসায় ফেরার পথে জীবন বাঁচাতে তিনি পাশের একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। পুলিশ ধাওয়া করলে তিনি ভবনের কার্নিশে থাকা রড ধরে ঝুলে পড়েন।

ততক্ষণে সেই দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে যায়। কিন্তু মানবিকতা ও আইনের তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিন্ধ হয়ে আমির নিচে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই দুঃসহ স্মৃতি আজীবন তাকে তাড়া করবে। একই দিন ওই এলাকায় পুলিশের গুলিতে আরও দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম আদালতে চূড়ান্ত যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। তারা আদালতকে বলেন, নিরস্ত্র ও অসহায় এক যুবকের ওপর এমন বর্বরতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow