এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রয়োজনীয় ওরস্যালাইন, কলেরা স্যালাইন ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, গত ২২ মে থেকে শুরু হওয়া এই ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম সেখানে সেবা প্রদান করেছিল, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পুনরায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টায় অর্ধশতাধিক রোগী সুস্থ হলেও, বর্তমানে আক্রান্তদের অধিকাংশই পানিশূন্যতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন ও আইভি ফ্লুইড নেই। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতেও ওষুধের তীব্র সংকট। এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর বা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য উমাচিং মারমা জানান, গ্রোপিং পাড়া, আদা ম্রো পাড়া ও রেমাক্রী বাজার এলাকায় এখনো বহু মানুষ আক্রান্ত। এদের অধিকাংশই অত্যন্ত দরিদ্র, যাদের পক্ষে উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া দুঃসাধ্য। তিনি জানান, ঈদের দিন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো মেডিকেল টিম বা চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেও নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ঈদের ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও আশঙ্কাজনক করে তুলছে।
ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রেমাক্রী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, “দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা জোরদার না করা হলে এই প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, “আমি বর্তমানে ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামে আছি। ঈদের আগে আমাদের মেডিকেল টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছিল। তবে পুনরায় ডায়রিয়া বৃদ্ধির বিষয়টি আমি জানতাম না। এখন যেহেতু জেনেছি, তাই জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইন এবং মেডিকেল টিম পাঠানোর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিলম্ব না করে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনসহ পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
নেত্রকোনা | ১৫ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৫ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশ | ১৫ জুলাই, ২০২৬
মাগুরা | ১৫ জুলাই, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ | ১৫ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।