৫০ বছরের জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণে খাদ্য নিরাপত্তার পথ খুঁজছে নোবিপ্রবি, প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

মেহেদী হাসান ইমন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:২৭ পিএম
শেয়ার করুন:
৫০ বছরের জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণে খাদ্য নিরাপত্তার পথ খুঁজছে নোবিপ্রবি, প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

(০৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা–২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (BCCT)-এর স্টলে প্রদর্শিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালিত “মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, গবেষণা পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গবেষণাটিতে মেঘনা অববাহিকার জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভবিষ্যৎ জলবায়ুর অনুকরণ, বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় সম্ভাব্য ফসলের অভিযোজন সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন করে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, “আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা। এ জন্য আমরা গত ৫০ বছরের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও জলবায়ুগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস মূল্যায়ন করছি।

বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন ও বার্লির বৃদ্ধি, ফলন এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা এই গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষণাটি শুধু ফলনের পরিবর্তন নির্ণয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতিতে কোন ধরনের ফসল চাষ অধিক উপযোগী হবে এবং কীভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়েও কার্যকর সুপারিশ প্রদান করবে।

তিনি আরও জানান, গবেষণার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউস ও মাঠ—উভয় পরিবেশেই পরীক্ষামূলকভাবে সয়াবিন ও বার্লির চাষাবাদ করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

ড. মহিনুজ্জামান আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই গবেষণা উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আমাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।