মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ১০:৪৭ এএম
শেয়ার করুন:
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি ও দমন-পীড়নের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করা হবে[1][2][3]।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন[3]。 ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর[1][3]。 আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এই রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে[1][2][3]।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগসমূহ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়[4][5]। এতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ[1][4]। আহত হন আরও বহু মানুষ[4]। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়[4][6]।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে (ফরমাল চার্জ) হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে[2][4]। এর মধ্যে প্রধান অভিযোগগুলো হলো[2][7]:

  • গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের পক্ষে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান[2]।

  • তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও দমন-পীড়নের পরিকল্পনা ও উসকানি প্রদান[2]।

  • ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলের সভায় উপস্থিত থেকে দমন-পীড়ন জোরদার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখা[2]।

  • কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে কল দিয়ে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি, গ্রেপ্তার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান[2][7]।

  • ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় প্রত্যক্ষ উসকানি ও নির্দেশনা প্রদান[7]।

বিচার প্রক্রিয়ার বিবরণ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ঢাকার উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়[5][8]। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু হয়ে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়[1][9]। ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ২ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন[1][2][5]।

একই বছরের ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়[1][9]। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ২ জন সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন[1][5]।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গত ১৪ মে শেষ হয়[1][9][10]। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন এবং গত ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করেন[3][9]।

উভয় পক্ষের বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা শুনানিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেছেন[2][9]। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী আদালতে যুক্তি তুলে ধরে দাবি করেছেন, কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ঘটনার সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিতও ছিলেন না[4]। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ইনু কোনো সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও আসামিপক্ষ থেকে দাবি করা হয়[4]

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।