এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
“সরকারি একটি ঘর পেলে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম। পেটে ভাত থাকুক আর না থাকুক, অন্তত রাতে স্বামী-স্ত্রী দুজন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতাম।” — এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের পূর্ব সদরবেড়া গ্রামের বাসিন্দা খগেন মন্ডল (৪৭)।
প্রায় ১২ বছর ধরে পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন খগেন মন্ডল ও তার স্ত্রী প্রভাতী রানী মন্ডল। অন্যের দয়ার জায়গায় কোনো রকমে দিন কাটছে তাদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই পলিথিনের ছাউনি ভেদ করে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঝড়-বাতাসে কখন ঘরটি উড়ে যায় - এমন আতঙ্ক নিয়েই রাত কাটাতে হয় তাদের।
খগেন মন্ডল, পিতা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল। পেশায় কৃষিশ্রমিক। বয়স ও অসুস্থতার কারণে আগের মতো নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। একদিন কাজ জুটলেও পরের দিন কাজ থাকে না। অসুস্থ শরীর নিয়েই জীবিকার তাগিদে তাকে কাজে যেতে হয়। তার স্ত্রী প্রভাতী রানী মন্ডলও মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করেন।
সংসারে তিন মেয়ে এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে গেছেন। ছেলে নিরব (১৭) সে তার বোনের বাড়ি থেকে জীবিকা খুঁজছে।
বর্তমানে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরটিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করছেন। অভাবের কারণে নিজেদের জন্য একটি ঘর তৈরি করা তাদের কাছে যেন অসম্ভব।
খগেন মন্ডল বলেন, “আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। অনেক বছর ধরে পলিথিনের ঘরে থাকি। বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। ঝড়-বাতাস হলে ভয় হয়, কখন জানি ঘরটা উড়িয়ে নিয়ে যায়। অসুস্থ শরীর, ঠিকমতো কাজও করতে পারি না। সরকার যদি আমাকে একটি ঘর দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারব।”
এদিকে খগেন মন্ডলের দুর্দশার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “খগেন মন্ডল কখনো আমার কাছে সহযোগিতার জন্য আসেননি। মোবাইলে ভিডিও দেখে জানতে পেরেছি তিনি পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। বিষয়টি জানার পর আমি তাদের জন্য কিছু করতে চাই এবং করব।”
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “খগেন মন্ডল পরিবার নিয়ে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। খগেন মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি যাতে সরকারি একটি ঘর পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অসহায় খগেন মন্ডলের আকুতি—জীবনের শেষ সময়ে বিলাসবহুল কিছু নয়, শুধু মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর চান তিনি। সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেলে দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করছেন এই দম্পতি।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।