মেহেরপুরে বাচ্চা থাকা পচা ডিম ও ছত্রাকসহ পাউরুটি দেওয়া হলো স্কুল ফিডিংয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ
২ জুলাই, ২০২৬ ১:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
মেহেরপুরে বাচ্চা থাকা পচা ডিম ও ছত্রাকসহ পাউরুটি দেওয়া হলো স্কুল ফিডিংয়ে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ভেতরে বাচ্চা হওয়া পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে [১]। গত বুধবার (১ জুলাই) সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় [১]। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'সুশীলন' দীর্ঘদিন ধরে এমন মানহীন খাবার দিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না [১]।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হয় [১]। পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের গুণগত মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে [১]।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরবরাহকৃত ডিমের একটি বড় অংশই নষ্ট এবং পাউরুটিগুলোতে ছত্রাক জমে আছে [১]। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জানায়, তাকে যে ডিমটি দেওয়া হয়েছিল সেটি পচা ছিল এবং তা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হচ্ছিল [১]। এছাড়া পাউরুটিতে ছত্রাক থাকায় তা ফেলে দিতে হয়েছে [১]। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল ও শাকিলও একই অভিযোগ করে জানায়, তাদের দেওয়া ডিমের কুসুমে পানি ও কালো রঙের স্তর পড়েছিল [১]। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে [১]। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে একাধিকবার মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি [১]। এই অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন খাবার খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি [১]।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'সুশীলন'-এর এরিয়া ম্যানেজার সুমন হোসেন ডিম পচা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন [১]। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর পচা ডিমগুলো পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে [১]। তবে পাউরুটিতে ছত্রাক থাকার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন [১]। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খাবার শিক্ষকেরা রেখে দেন এবং পরে তা বিতরণ করার কারণে হয়তো খাবারের মান নষ্ট হতে পারে [১]।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মৈত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি [১]। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি [১]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।