মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৩:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার কাশীপুর জেটিসংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে গত ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৫০০টি মুসলিম পরিবার। 

জানা গেছে, কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই কলোনিতে মূলত নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ বসবাস করেন। পরিবারগুলো প্রায় ৫০ থেকে ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বাস করছেন। সম্প্রতি পুরো এলাকার সুপেয় পানির পাঁচটি সরকারি কল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ল্যাম্পপোস্টসহ বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু ঘরে বিদ্যুৎ ফিরলেও দীর্ঘ আড়াই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খাবার পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সুপেয় পানির কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কলোনির নারীরা রান্নাবান্না ও গোসলের জন্য পাশের গঙ্গা নদীর ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিভিন্ন এলাকার দূষিত বর্জ্য নদীতে পড়ার কারণে সেই পানি ব্যবহারের ফলে এলাকায় পানিবাহিত নানা রোগ ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকাটি সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের এসব নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তাদের দাবি, পানি সরবরাহ বন্ধ রেখে মূলত বস্তিটি উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে বারবার কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এমনকি স্থানীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোও তাদের এই সংকট তুলে ধরতে অনীহা দেখাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় বিধানসভা নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, সংখ্যালঘুরা তাঁকে ভোট না দেওয়ায় তিনি তাদের জন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করবেন না। জনপ্রতিনিধির এমন অবস্থানের পর থেকেই এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।