শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলা গোবিপ্রবির সেই দুই শিক্ষকের মানববন্ধনে তোলপাড়

গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
May 14, 2026 - 18:55
শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলা গোবিপ্রবির সেই দুই শিক্ষকের মানববন্ধনে তোলপাড়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ বলে কটাক্ষ করে আলোচিত-সমালোচিত হওয়া গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) দুই শিক্ষক এবার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ ব্যানারে রাজধানীর এক মানববন্ধনে তাদের অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্কিত ওই দুই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা এবং সহকারী অধ্যাপক জয়নাব বিনতে হোসেন।

জানা যায়, গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। ওই মানববন্ধনে গোবিপ্রবির অভিযুক্ত এই দুই শিক্ষককে প্রথম সারিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিদ্রূপ এবং শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার শাবক’ সম্বোধন করায় এই দুই শিক্ষক ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, "যারা আমাদের রক্তঝরা আন্দোলনকে অবজ্ঞা করেছেন এবং আমাদের ‘রাজাকার’ গালি দিয়েছেন, তারা এখনো প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদের বন্দনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততা দুঃখজনক।"

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী তোহা বলেন, "ফ্যাসিবাদের দোসরদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে বেঈমানি। শিক্ষার্থীরা তাদের আগেই ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। আমরা অবিলম্বে এসব নৈতিকতাহীন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব ড. এস এম আহসান বলেন, "বিচারাধীন ও বিতর্কিত ইস্যুতে শিক্ষকদের এমন সম্পৃক্ততা কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।"

অভিযোগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, "এটি একটি সাধারণ মানববন্ধন ছিল। হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এর সাথে জুলাই অভ্যুত্থান বা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই।" আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

তবে অন্য অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নাব বিনতে হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাকেও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে ‘১০০১ জন’ শিক্ষকের যে বিতর্কিত বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানেও এই প্ল্যাটফর্মটির ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow