কালকিনিতে শ্বশুরবাড়ির বিরোধ মেটাতে গিয়ে শ্যালকের হামলায় ভগ্নিপতিসহ আহত ৩

আলমাস বেপারী, কালকিনি প্রতিনিধি, মাদারীপুরঃ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৫ এএম
শেয়ার করুন:
কালকিনিতে শ্বশুরবাড়ির বিরোধ মেটাতে গিয়ে শ্যালকের হামলায় ভগ্নিপতিসহ আহত ৩

মাদারীপুরের কালকিনিতে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় মোঃ সিদ্দীক হাওলাদার (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ ও তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় সিদ্দীক হাওলাদারসহ অন্তত তিনজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। 

রোববার সকালে কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌর এলাকার পাতাবালি গ্রামের কৃষক সিদ্দীক হাওলাদার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাছেন ঘরামীর মেয়ে রেহেনা বেগমকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি সিদ্দীক হাওলাদারের দুই শ্যালকের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। জ্যৈষ্ঠ জামাতা হিসেবে সিদ্দীক হাওলাদার তাদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। এতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তার শ্যালক সাজ্জাদ ঘরামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সিদ্দীক হাওলাদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এ সময় সিদ্দীক হাওলাদারকে বাঁচাতে তার ছেলে আজিজুল হাওলাদারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। 

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাদের আঘাত গুরুতর হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের পরামর্শ দেন।

আহত সিদ্দীক হাওলাদারের পুত্রবধূ রজিনা বেগম বলেন, “আমার শ্বশুর ও স্বামীকে সাজ্জাদ ঘরামী কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেছেন। এ ঘটনায় আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঘরামীর মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার ছেলে ও জামাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, “হামলার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।