ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
৯ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ফরিদপুরের সদরপুরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে নিজ ঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্বরোচিত এই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “১৫ বছরের এক কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার দুঃসাহস না পায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “এলাকায় মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। ঘটনার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে; আসামিরা সবাই ইয়াবা ও গাঁজার নেশায় আসক্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নির্মম এই ঘটনার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ন্যায়বিচার দিতে দ্রুত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আজ নিজ ঘরেও কিশোরীরা নিরাপদ নয়। ধর্ষক ও অপরাধীদের কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না, তারা সমাজের শত্রু। অনতিবিলম্বে প্রধান আসামিসহ সকলকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার বলেন, “এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

**ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:**  
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে জোরপূর্বক বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) এবং ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। তবে তাদের কাউকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধরতে পারেনি; স্থানীয় জনতাই তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। 

অন্যদিকে ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সদরপুর থানা পুলিশ প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, “অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পারব।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।