কুয়েতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত: ৩৫ বছর পর দেশে ফেরা জামাল হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৭ এএম
শেয়ার করুন:
কুয়েতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত: ৩৫ বছর পর দেশে ফেরা জামাল হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা

কুয়েতের ঐতিহ্যবাহী সারা প্লাজায় বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটি কুয়েত’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই মঞ্চে দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাসজীবন শেষে স্থায়ীভাবে স্বদেশে ফেরা সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বরিশালের কৃতী সন্তান জামাল হোসেনকে আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা ও ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান রূপ নেয় প্রবাসীদের এক মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা, প্রবাসীদের অধিকার ও অবদান নিয়ে আলোচনা এবং সম্মাননা প্রদান পর্ব। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা জামাল হোসেনকে ঘিরে একপর্যায়ে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংগঠনের সভাপতি আ. ক. ম. আজাদের সভাপতিত্বে এবং নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের সদস্যরা বক্তব্য দেন। 

অনুষ্ঠানে জামাল হোসেনের প্রবাসজীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, জীবিকার তাগিদে মাত্র ২২ বছর বয়সে জন্মভূমি ছেড়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামাল হোসেন। এরপর জীবনের সোনালী সাড়ে তিন দশক প্রবাসের প্রতিকূল পরিবেশে অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন তিনি। পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অধ্যায় সমাপ্ত করে এবার তিনি স্থায়ীভাবে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর এই ঘরে ফেরা একজন সফল প্রবাসীর অনুপ্রেরণাদায়ী সমাপ্তি।

বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসীরা প্রতিকূল পরিবেশে দিনরাত হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরেন না, পুরো দেশের উন্নয়নযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। জামাল হোসেনের মতো যেসব রেমিট্যান্স যোদ্ধা জীবনের সেরা সময়টি বিদেশের মাটিতে উৎসর্গ করেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে তাঁদের এই অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটি কুয়েতের পক্ষ থেকে জামাল হোসেনকে বিশেষ ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সম্মাননা স্মারক’ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপস্থিত সহযোদ্ধারা অশ্রুসজল চোখে তাঁর সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘ অবসর জীবন কামনা করে বিদায় জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।