বিপ্লবের সার্থকতা ক্ষমতার পরিবর্তনে নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে: নোবিপ্রবি উপাচার্য

মেহেদী হাসান ইমন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২৫ পিএম
শেয়ার করুন:
বিপ্লবের সার্থকতা ক্ষমতার পরিবর্তনে নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে: নোবিপ্রবি উপাচার্য

৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেছেন, "বিপ্লবের সার্থকতা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনে নয়, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে। জাতীয় সংহতির প্রকৃত সার্থকতা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।"

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দিবসের কর্মসূচি শুরুতে নোবিপ্রবি গোলচত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের বেদিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তি দেশের রাজনৈতিক গতিপথের একটি বড় বাঁকবদল ছিল। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ১৯ দফা কর্মসূচি, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দেশ নবযাত্রায় প্রবেশ করে, যা পরবর্তী সময়ে সার্ক প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল। 

৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি পুনর্বহালের প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ। কোনো ঐতিহাসিক দিবসকে দলীয় পরিচয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সবার অংশগ্রহণ ও মূল্যবোধের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। 

উপাচার্য আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের সার্থকতা নতুন কাঠামো তৈরিতে নয়, সাধারণ মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল সনদ বিতরণের কেন্দ্র না বানিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও চিকিৎসাসহ আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও ‘জেড ফোর্স’-এর নেতৃত্ব দিয়ে শহিদ জিয়াউর রহমান ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক সংকট এবং সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ৭ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার তামজিদ হোছাইন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী, সেকশন অফিসার মো. জিয়াউর রহমান, শাখা কর্মকর্তা আবদুল কাদের রহমান, পরিবহন শাখার প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান, বার্তাবাহক মোশারফ হোসেন, শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান, হাসিবুল হাসান হাসিব এবং সাখাওয়াত হোসেন সায়েম।

এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

আলোচনা সভা শেষে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. গিয়াস উদ্দীন ভূঁইয়া।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।