৫০ বছরের বিচ্ছেদের পর বাবাকে শেষবার দেখতে সীমান্তে মেয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
৫০ বছরের বিচ্ছেদের পর বাবাকে শেষবার দেখতে সীমান্তে মেয়ে

দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দীর বিচ্ছেদ শেষে বাবার দেখা পেলেন মেয়ে, তবে জীবিত অবস্থায় নয়—নিথর দেহে। কাঁটাতারের সীমানা পেরিয়ে বাবার শেষ বিদায়ের মুহূর্তে চোখের জলে বুক ভাসালেন ফিরদৌসী খাতুন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে বেলতলা নামক স্থানে এই আবেগঘন সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল শতবর্ষের বেশি। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ফিরদৌসী খাতুন ছিলেন সবার বড়। 

প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর আগে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ার বাসিন্দা ইসরাফিলের সঙ্গে ফিরদৌসীর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তিনি বাংলাদেশে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে দুই দেশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হলে বাবার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি শতবর্ষী বাবার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে শেষবারের মতো তাঁকে একনজর দেখার আকুল ইচ্ছা প্রকাশ করেন ফিরদৌসী। বিষয়টি স্থানীয় বিজিবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে উভয় পক্ষ সীমান্তের শূন্যরেখায় মৃতদেহটি দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদরের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন এবং ভারতের পক্ষে এএসআই সুনীল কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের অপেক্ষা শেষে কফিনে শোয়ানো বাবার মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিরদৌসী খাতুন। তাঁর এই আহাজারিতে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখও ভিজে ওঠে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।