এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান।
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল, আধুনিক ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হলে কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য কেবল নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান কতটা বাড়ল, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটুকু সৃষ্টি হলো এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল—এসব মাপকাঠিতেই প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়িত হবে।
পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বন্দর ব্যবস্থাপনা:
পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রেজিংয়ের পলি সঠিক ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্গো ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।
আন্তর্জাতিক ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান:
মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বন্দরের নাব্যতা রক্ষা, নৌ-চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক সেবার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
সমন্বিত যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। এ বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ, সরবরাহ ব্যবস্থা (লজিস্টিকস) এবং পণ্য পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি মোংলা বন্দর, ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।
বিনিয়োগের আহ্বান:
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ উদীয়মান শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুলাই ৩০, ২০২৫
অক্টোবর ১৫, ২০২৬
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ৫ নভেম্বর, ২০২৬
বান্দরবান | ৫ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয় | ৫ নভেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৫ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয় | ৫ নভেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।