সাভার-আশুলিয়ায় রণক্ষেত্র, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সাভার-আশুলিয়ায় রণক্ষেত্র, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার ও আশুলিয়া পোশাক শিল্পাঞ্চলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এবং উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুর পদ্মার মোড়ে শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় ওসি সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শ্রমিকদের হামলার শিকার হন একাত্তর টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। আহত অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে দুপুরের দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নিলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগে আশুলিয়া থানা পুলিশ মবিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের হামলায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে মালিকপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। সাভারের পদ্মার মোড়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলেও তা দ্রুত প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি একযোগে দায়িত্ব পালন করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।