সদরপুরে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে নির্মম নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

সদরপুর(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
সদরপুরে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে নির্মম নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাররশি গ্রামের ‘আজিবুন্নেসা আন্তর্জাতিক হিজবুল কুরআন মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ (১০)। সে উপজেলার দক্ষিণ আটরশি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিমের ভাই মুরসালিনকে নাম ধরে ডাকাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে মুরসালিনসহ মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী রাজিব, রায়হান ও সুজন মিলে আব্দুল্লাহকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বেদম মারধর করে। এ সময় শিশুটির হাত, পা, বুক, পিঠ এবং নাক-মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। নির্যাতনের পর বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, ফলে ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু বলতে সাহস পায়নি।

পরিবারের আরও অভিযোগ, মারধরের পর শিশুটিকে রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় দেখার পরও চিকিৎসার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি মুহতামিম আব্দুল করিম। তিনি শিশুটিকে কেবল একটি প্যারাসিটামল (নাপা) ট্যাবলেট খাইয়ে একটি জানাজার নামাজে চলে যান। পরবর্তীতে জানাজা শেষে ফিরে শিশুটির প্রচণ্ড জ্বর দেখে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে আব্দুল্লাহর মা ও চাচা দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। পরে সদরপুর থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

আহত শিক্ষার্থীর মা লিজা আক্তার ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার অবুঝ ছেলেকে একটি কক্ষে আটকে যেভাবে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঘটনার পর থেকে মামলা না করার জন্য আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার সন্তানের ওপর এই বর্বরতার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুর ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।