রাজধানীতে হাড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
রাজধানীতে হাড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে উত্তর বাড্ডা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচ থেকে শুরু হওয়া বিশাল মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শত শত নারী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে খালি হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি সিলিন্ডারের ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, "আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কিংবা কাউকে গালিগালাজ করতে আসিনি; জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। বাজারে আজ সাধারণ মানুষের চোখেমুখে শুধুই হতাশা ও অস্বস্তি। দফায় দফায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়েনি।"

অবিলম্বে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, "দেশের জনগণকে তীব্র সংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে কৃত্রিম উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো যাবে না। কার্ড বিতরণ করে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না। জনগণের আস্থা হারালে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।"

গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য। নিত্যপণ্যের বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় অবিলম্বে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বসে তাঁদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ছাঁটাই ও হয়রানি বন্ধ করে যথাসময়ে বেতন পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি। 

তবে শ্রমিকদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, "গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন সুযোগ নিয়ে ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সেদিকে শ্রমিক ভাইদের সতর্ক থাকতে হবে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।" গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ এবং মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।