নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগের ৩৭ দিন পর জীবিত ফিরলেন মালয়েশীয় পর্যটক

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগের ৩৭ দিন পর জীবিত ফিরলেন মালয়েশীয় পর্যটক

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের দীর্ঘ ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত ফিরে এসেছেন এক মালয়েশীয় নাগরিক। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিরাপদে নিজ দেশ মালয়েশিয়ায় পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট*-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগে নিখোঁজ হওয়া মালয়েশীয়দের স্বজনদের সংগঠন ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’-এর বরাতে খবরটি প্রকাশ্যে আসে।

সংগঠনটির মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম জানান, ফিরে আসা ব্যক্তি একজন চীনা বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক। তিনি এককভাবে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। দুর্যোগে আটকে পড়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি নিজ উদ্যোগে কাঠমান্ডুর মালয়েশীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। 

স্বজনদের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে নাগথালি ভিউপয়েন্ট এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এর পরদিনই (২৬ আগস্ট) অঞ্চলটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। দুর্যোগে সড়ক ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তিনি বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানে আটকা পড়েন।

উল্লেখ্য, হিমালয়ের লাংটাং লিরুং এলাকায় হিমবাহ ধস ও তুষারধসের কারণে এ ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হয়। এতে নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত ও চীনের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও বহু মানুষের খোঁজ মেলেনি।

এদিকে ৩৭ দিন পর নিখোঁজ এই পর্যটকের নিরাপদে ফিরে আসা অন্য নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। তারা এখনও নিখোঁজ থাকা মালয়েশীয় নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধারে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতার বাস্তব চিত্র এবং পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে স্বজনদের একটি প্রতিনিধিদল নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের দাবিও জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।