স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলা: রাজবাড়ীতে নার্স তানিয়ার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৩ এএম
শেয়ার করুন:
স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলা: রাজবাড়ীতে নার্স তানিয়ার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে স্বামীর ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোছাঃ তানিয়া খাতুন (২২) নামের এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। 

কারাগারে পাঠানো তানিয়া খাতুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রাজবাড়ীর রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াত হোসেন ব্যাংকে জমা রাখার উদ্দেশ্যে স্ত্রী তানিয়াকে নগদ ৬ লাখ টাকা দেন। তবে তানিয়া সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়। 

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা জারির পর তানিয়া আদালতে হাজির হয়ে আপস-মীমাংসার শর্তে জামিন নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো ধরনের আপস-মীমাংসা না হওয়ায় সোমবার নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সাখাওয়াত হোসেনের দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের অপর একটি মামলায়ও তানিয়া খাতুনকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। ওই মামলায় ১৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে আপসের শর্তে তিনি জামিন পেলেও তা কার্যকর হয়নি। এমনকি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।