কালকিনিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মহাসড়ক দখল করে কুণ্ডুবাড়ি মেলার দোকান নির্মাণের অভিযোগ

জাহিদ (কালকিনি) মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
কালকিনিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মহাসড়ক দখল করে কুণ্ডুবাড়ি মেলার দোকান নির্মাণের অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনিতে উপজেলা প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কুণ্ডুবাড়ি মেলা’কে কেন্দ্র করে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলা আয়োজনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না মিললেও একটি প্রভাবশালী মহল আগাম দোকান বরাদ্দ দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা বাণিজ্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুয়ালী মাদারীপুর এবং দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় ভূরঘাটা-মাদারীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে মেলার অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। অথচ উপজেলা প্রশাসন থেকে এখনো মেলা আয়োজনের কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অস্থায়ী দোকানঘরগুলো থেকে উচ্চ হারে চাঁদা তুলে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দেয় একটি সিন্ডিকেট। এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় প্রতি বছরই মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদার মহোৎসবে মেতে ওঠে চক্রটি। এতে প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি তার চিরচেনা জৌলুস ও সামাজিক মর্যাদা হারাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও কুণ্ডুবাড়ি মেলায় চাঁদা আদায়ের কোনো প্রচলন ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় একটি প্রভাবশালী মহল এটিকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। সরকার পরিবর্তন হলেও এই মহলের দৌরাত্ম্য কমে না। আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে মেলাটিকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির এক সদস্য আক্ষেপ করে জানান, মেলার দোকান থেকে চাঁদা তোলার এই অপসংস্কৃতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি অতীতে দোকান বরাদ্দ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার আকবার সরদার দাবি করেন, “মহাসড়কের পাশে যেসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তা ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব—এমন প্রশ্নের মুখে তিনি নিরুত্তর থাকেন। এছাড়া সরেজমিনে গিয়ে তাঁর দাবির কোনো সত্যতা মেলেনি; দেখা গেছে মহাসড়কের পাশে অবৈধ কাঠামোগুলো আগের মতোই দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কালকিনি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস বলেন, “মেলার নির্দিষ্ট জায়গার ইজারা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মেলা আয়োজনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করা হয়নি। মহাসড়কের পাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা ও খুঁটি পোঁতা হয়েছিল, ইজারাদারকে ডেকে সেগুলো দ্রুত অপসারণ করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।