‘ছং-রাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্’ সুরে রুমায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৩ এএম
শেয়ার করুন:
‘ছং-রাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্’ সুরে রুমায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা

"ছং-রাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্, রাথা পোয়ে লাগাইমেহ্"*—মারমা ভাষার এই গানের বাংলা অর্থ, *"প্রবারণা পূর্ণিমা এসেছে, এসো সবাই মিলেমিশে রথযাত্রায় যাই।"* পাহাড়ি সুর ও বাদ্যের এমন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে বান্দরবানের রুমায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’র ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য রথযাত্রা উৎসব। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে চার দিনব্যাপী প্রবারণা উৎসবের সমাপনী দিনে এই রথযাত্রা বের করা হয়। 

রুমা বাজার সংলগ্ন মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় রথযাত্রাটি। বাঁশ, কাঠ এবং রঙিন কাগজের নিপুণ কারুকাজে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ময়ূর সদৃশ রথের ওপর স্থাপন করা হয় গৌতম বুদ্ধের প্রতিমূর্তি। রথের সম্মুখভাগে বাঁধা দীর্ঘ দুটি রশি ধরে তালে তালে নেচে-গেয়ে রথ টেনে নিয়ে যান উচ্ছ্বসিত তরুণ-তরুণীরা। 

রথযাত্রা চলাকালে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা মোমবাতি ও আগরবাতি প্রজ্বালন করে বুদ্ধপূজা ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রুমা পরিণত হয় এক সম্প্রীতির মিলনমেলায়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সকল সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে রথযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 

রথটি রুমা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ বিকেলে সাঙ্গু নদীর তীরে পৌঁছায়। সেখানে আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার ও পূজা শেষে সাঙ্গু নদীর জলে রথটি ভাসিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে চার দিনব্যাপী ওয়াগ্যোয়াই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

এর আগে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য উম্যসিং মারমা। এ সময় কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।