সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক

সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসালে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনুরোধের সময় শেষ; এখন থেকে সড়ক বা ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই সরাসরি মামলা দায়ের এবং মালামাল ক্রোক করা হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘রাজধানীর সড়কে তীব্র যানজট, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পথচারীদের অবাধ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য বহুলাংশে দায়ী অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানগুলো। নগরবাসী এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চায়। তাই মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের আর কোনো সুযোগ নেই। ডিএসসিসির নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালেই মালামাল জব্দ এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই সেখানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযানকালে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এসটিএসটি স্থানান্তর করে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পথিমধ্যে ডিএসসিসি প্রশাসক সরাসরি উপস্থিত থেকে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকি করেন। 

দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধন কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও মাইকিং করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।