নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৭ এএম
শেয়ার করুন:
নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

বাপের বাড়ি থেকে পাঠানো নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের শিকার সিফাতুন নুর (২২) নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

নিহত সিফাতুন নুর চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের একমাত্র মেয়ে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে সিফাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী প্রবাসে ফিরে গেলে সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন সিফাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

স্বজনরা জানান, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫)। তবে নাস্তার পরিমাণ কম হয়েছে দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) ক্ষিপ্ত হয়ে জুহিনুর আক্তারকে মারধর শুরু করেন। 

এ সময় সিফাতুন মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অপর দুই স্বজন রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। মা-মেয়ের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।

পরিবারের দাবি, মারধরের পর ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অচেতন অবস্থায় টানা নয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ঘটনার দিনই (১৪ অক্টোবর) সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার বাদী হয়ে শাশুড়ি রিজিয়া বেগমসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

নিহতের বাবা মো. নুর অভিযোগ করে বলেন, "মারধরের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ভিন্ন খাতে নিতে সিফাতুন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে নাটক সাজাতে চেয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।" তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে আগেই একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।