ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তিন দিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ মে, ২০২৬ ১২:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তিন দিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি

দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথমবারের মতো স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ মধ্যস্থতায় দুই দেশ তিন দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রণক্ষেত্রে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ থাকবে।

যৌথ সম্মতিতে যুদ্ধবিরতি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে, ৯, ১০ এবং ১১ মে—এই তিন দিন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার লড়াই স্থগিত থাকবে। এই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতার ফলেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে। তিনি বলেন, "মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কিয়েভের সঙ্গেও মার্কিন প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।"

বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও বন্দি বিনিময়
আজ শনিবার রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘বিজয় দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে। এই দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মূলত যুদ্ধবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "বিজয় দিবস রাশিয়ার জন্য যেমন উৎসবের, ইউক্রেনের জন্যও তা সমান তাৎপর্যের। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদেরও বিশাল অবদান ছিল।"

এই তিন দিনের বিরতিতে কেবল গোলাগুলিই বন্ধ থাকবে না, বরং এক মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দুই দেশ মোট দুই হাজার বন্দি বিনিময় করবে (প্রতি দেশ থেকে এক হাজার করে)। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এই বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শান্তি আলোচনার পথে অগ্রগতি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামাবেন। তবে ক্ষমতা গ্রহণের দেড় বছর পার হলেও বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা প্রতিদিন লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। আশা করছি, এই দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী যুদ্ধের সমাপ্তি খুব শীঘ্রই ঘটবে।"

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল। এই অঞ্চলের অধিকাংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মস্কো চায় ইউক্রেনীয় বাহিনী সেখান থেকে পুরোপুরি সরে যাক, কিন্তু কিয়েভ তাদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে নারাজ। এই অচলাবস্থা নিরসনে বর্তমানে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে মিয়ামিতে অবস্থান করছেন।

বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই তিন দিনের যুদ্ধবিরতির দিকে, যা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।