এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
সংবাদ সম্মেলন কী, তা বোঝার বয়স এখনো হয়নি চার বছরের শিশু রিদার। কিন্তু বাবার অনুপস্থিতি তার ছোট্ট মনে যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটল প্রেস ক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে। টেবিলের ওপর রাখা সারিবদ্ধ মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে রিদা বলে ওঠে— ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন, আমার বাবা আমাকে অনেক আদর করে। আমি বাবাকে ফিরে পেতে চাই। বাবাকে ছাড়া একটু কিচ্ছু ভাল্লাগে না আমার। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।’
গত সোমবার রাতে অপহৃত যশোর শহরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৮) ফিরে পাওয়ার দাবিতে বুধবার বিকেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রিদার এই আকুতি শুনে মা রেশমা খাতুন ও তাঁর অন্য দুই মেয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত স্বজনরাও। থমথমে ও আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ‘আর আর মেডিকেল’ নামে একটি ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানের মালিক। তিনি সপরিবারে শহরতলির সুজলপুর এলাকায় বসবাস করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড় থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।
নিখোঁজের পর ওই রাতেই জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে কল করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এরপর থেকেই জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেশমা খাতুন বলেন, ‘সাত বছর ধরে আমার স্বামী শংকরপুর এলাকায় সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও কাজ শেষে ফিরছিলেন, কিন্তু আর ফেরা হয়নি। আমার বড় মেয়ে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে, অথচ সে এখন বাবার চিন্তায় অস্থির। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একাধিক টিম কাজ করছে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণে এই অপহরণ—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং দ্রুতই তাকে উদ্ধারের আশা ব্যক্ত করেছে।
অপহরণের তিন দিন পার হয়ে গেলেও প্রিয় অভিভাবককে ফিরে না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারটির। তাদের একমাত্র দাবি—জাহাঙ্গীর আলমকে যেন দ্রুত জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
পিরোজপুর | ৪ জুন, ২০২৬
নোয়াখালী | ৪ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৪ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৪ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৪ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।