পিরোজপুরে জমি বিরোধের সালিশ শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ৪

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সালিশি বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথ

জালিস মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুরঃ
৪ জুন, ২০২৬ ৮:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
পিরোজপুরে জমি বিরোধের সালিশ শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ৪

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সালিশি বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) বেলা ১২টার দিকে কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দাউদপুর বাজারের তামিম শিকদারের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— গজালিয়া গ্রামের মতিয়ার রহমান হাওলাদার (৬৬), মোহাম্মদ আল আমিন হাওলাদার (৪৪), শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও রাসেল হাওলাদার (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গজালিয়া গ্রামের মতিয়ার রহমান হাওলাদার ও কেরামত আলী শিকদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের মীমাংসা করতে ইতিপূর্বে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। এরই ধারাবাহিকতায়, বুধবার বেলা ১২টায় কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষকে নিয়ে পুনরায় সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করে দাউদপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহত আল আমিন হাওলাদারের ভাই রানেল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, "বৈঠক শেষে আমার বাবা মতিয়ার রহমান হাওলাদার, চাচা শহিদুল ইসলাম এবং দুই ভাই আল আমিন ও রাসেল বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আল আমিন ও রাসেলের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।"

আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আল আমিন হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় পাঠানো হয়। এছাড়া গুরুতর আহত রাসেলের মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের কেরামত আলী শিকদার দাবি করেন, “আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টার বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যেই সালিশি বৈঠকটির আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক শেষে বাইরে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।”

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।