সাভারে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেফতার ৩, মামলার ধারা নিয়ে পরিবারের ক্ষোভ

মোঃ শামীম আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
৫ জুন, ২০২৬ ১০:২৬ এএম
শেয়ার করুন:
সাভারে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেফতার ৩, মামলার ধারা নিয়ে পরিবারের ক্ষোভ

সাভারে দুই মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করে সংঘবদ্ধ গণধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মূল অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬), মজিবর রহমান (৪৮), মেহেদী (১৮) এবং তার আপন ভাই সাকিব (২০)। এছাড়া মামলায় আরও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—রানা, মজিবর ও মেহেদী। মামলার অপর আসামি সাকিব ও অজ্ঞাতনামা সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই ভুক্তভোগী গৃহবধূর প্রতিবেশী। 

মামলার বিবরণ ও ঘটনা:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি রানা বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাসায় না থাকার সুযোগে (তিনি মিরপুরের একটি মেলায় গিয়েছিলেন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা গৃহবধূর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। 

পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে এবং শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রানা বাসায় ফিরলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে।

পরিবারের দাবি ও তিন দিনের নির্যাতন:
এদিকে মামলাটিতে শুধুমাত্র এক দিনের (বৃহস্পতিবারের) ঘটনার উল্লেখ থাকলেও ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে, গৃহবধূকে মূলত টানা তিন দিন ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করা হয়েছে। 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়া বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে গোসল করার সময় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রানাসহ প্রতিবেশী আরও দুইজন ওই গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে এবং অন্য দুইজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরদিন বুধবার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রানাসহ তিনজন পুনরায় তাকে ধর্ষণ করে। এরপর বৃহস্পতিবার ওই তিনজনসহ মোট পাঁচজন মিলে আবারও তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। 

টানা তিন দিন এই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই মূল অভিযুক্ত রানাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। পরিবারের প্রশ্ন, তিন দিনের নির্যাতনের ঘটনা থাকা সত্ত্বেও মামলায় কেন কেবল এক দিনের কথা উল্লেখ করা হলো।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, "মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসলে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও প্রকৃত সত্য জানা যাবে।" তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ছবি বা ভিডিও ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ:
ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একাধিক আইনজীবী সতর্ক করে জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার কোনো ভুক্তভোগীর ছবি বা ভিডিও গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 

পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে ছড়ানোর বিষয়টি আদালত খতিয়ে দেখবেন এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।