সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা চায় ইসি, প্রার্থীদের থাকছে নতুন শর্ত

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা চায় ইসি, প্রার্থীদের থাকছে নতুন শর্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি সুযোগ চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারী, ঋণখেলাপি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) কমিশনের সভায় এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইন সংশোধনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সেনা মোতায়েনের সুযোগ চায় কমিশন
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে 'আইন প্রয়োগকারী সংস্থা'র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের উল্লেখ থাকলেও উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে তা নেই। নির্বাচন কমিশন চাইছে সব স্থানীয় সরকার আইনের এই সংজ্ঞায় অভিন্নতা বজায় থাকুক, যাতে প্রয়োজনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যায়। এই লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসির আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রায়ই বিভিন্ন সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া নির্দলীয় এসব নির্বাচনে একই এলাকার একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কমিশন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি সুযোগ হাতে রাখতে চায়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "আইনে সুযোগ থাকলেই যে সেনা মোতায়েন করা হবে, বিষয়টি তেমন নয়। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কমিশন যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে জন্যই এই আইনি সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।"

প্রার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন শর্তাবলি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করছে ইসি:

দ্বৈত নাগরিকত্ব: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদের প্রার্থীরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী: এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে বহাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। প্রার্থী হতে হলে তাদের আগে পদত্যাগ করতে হবে। 
মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গৃহীত হয়েছে, তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
ঋণ ও বিলখেলাপি: ঋণখেলাপি এবং বিভিন্ন বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থিতার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে তালিকায়।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি ও ট্রাইব্যুনাল
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় বিদ্যমান সাজার মেয়াদ ও জরিমানা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে ইসি। এছাড়া বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়ে আপাতত কোনো সংশোধনী আনার পরিকল্পনা নেই বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

ইসির এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধন করতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী অনুমোদন, মন্ত্রিসভার সম্মতি এবং জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পরেই এই নতুন বিধানগুলো কার্যকর হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।