দূষিত নদী পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পেলেন তরুণ

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
দূষিত নদী পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পেলেন তরুণ

সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় একটি দূষিত নদী পরিষ্কার করে বিশ্বমঞ্চে নজর কেড়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক তরুণ। ২১ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যিনি ‘বিট্টু তাবাহী’ নামে পরিচিত)—তাঁর এই নিঃস্বার্থ পরিবেশবান্ধব কাজের জন্য এবার পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্বখ্যাত একটি পরিবেশ সংস্থা থেকে সরাসরি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি।

যেভাবে শুরু এই অভিযান
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরা এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আজানার নদীর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক, পচা আবর্জনা ও শেওলায় ঢেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। নদীর এই করুণ দশা দেখে ব্যথিত হন সাধারণ পরিবারের সন্তান ও কলেজশিক্ষার্থী বিট্টু। অবশেষে গত ২৬ জানুয়ারি (ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস) তিনি নিজেই নদীটি পরিষ্কারের সংকল্প নিয়ে কাজে নেমে পড়েন। 

প্রাথমিকভাবে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিলেও পরবর্তীতে একাই এই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। নিজের জমানো সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সাধারণ কিছু সরঞ্জাম কেনেন তিনি। এমনকি সাঁতার না জানা সত্ত্বেও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নেমে পড়েন ময়লা-আবর্জনায় ভরা নদীতে। 

শারীরিক ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা
মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে নানা মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে বিট্টুকে। বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে হাত-পায়ে ইনফেকশন এবং ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দেয়। এমনকি নোংরা পানিতে বেশ কয়েকবার সাপের মুখোমুখিও হতে হয় তাঁকে। তবে কোনো বাধাই তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। মাসের পর মাস একা লড়াই করে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনেন তিনি।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও চাকরির প্রস্তাব
নদী পরিষ্কারের আগের ও পরের বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রশংসা পায়। 

ভিডিওটি নজরে আসে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিখ্যাত পরিবেশ সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ (The Ocean Cleanup)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বোইয়ান স্ল্যাটের (Boyan Slat)। বিট্টুর এমন একনিষ্ঠতা ও অসীম সাহসিকতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি সরাসরি তাঁকে নিজের সংস্থায় কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিট্টুকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন—‘এসো, আমাদের সঙ্গে কাজ করো।’

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ও সরকারি সহায়তা

বিট্টুর এই অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোগ নজর কেড়েছে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবেরও। সম্প্রতি তিনি বিট্টুকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার এ ধরনের উদ্যোগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এক সাধারণ শিক্ষার্থীর এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করেছে—সমাজ বা প্রকৃতির বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সবসময় বিশাল বাজেট বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না; একজন মানুষের দৃঢ় সংকল্প ও সদিচ্ছাই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।