রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অভ্যন্তরীণ দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকারের তাগিদ

জালিস মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুরঃ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪১ এএম
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অভ্যন্তরীণ দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকারের তাগিদ

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তাদের সুযোগ সম্প্রসারণের আগে এ খাতের বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের স্বতন্ত্র দায়িত্ব, প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি নীতি বাস্তবায়নের মতো সংবেদনশীল বিষয় বিবেচনায় শীর্ষ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়াই অধিক যুক্তিসংগত।

সম্প্রতি রূপালী ব্যাংক পিএলসির পিরোজপুর করপোরেট শাখার প্রধান মো. মিজানুর রহমান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগের নীতিমালা নিয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক উভয়েই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের কাজের মূল লক্ষ্য ও বাস্তবতায় স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের মূল নজর ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে জাতীয় স্বার্থে কাজ করতে হয়। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষিঋণ বিতরণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ ছাড়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সরকারের নীতিগত কর্মসূচিগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়। ফলে এই খাতের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য কেবল মুনাফাকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়; বরং জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। 

ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠপর্যায়ের শাখা পরিচালনা, ঋণ বিতরণ ও আদায়, আমানত সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নানা স্তর অতিক্রম করে আসেন। তাঁদের অনেকেই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পৌঁছে ব্যাংকের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই পরীক্ষিত অভিজ্ঞতাকে অবমূল্যায়ন করে বাইরে থেকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দক্ষ জনবল ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

তবে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা হলেই তাকে সরাসরি পদোন্নতি দিতে হবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, শীর্ষ পদে নিয়োগের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মেধা ও দক্ষতা, কেবল জ্যেষ্ঠতা নয়। সততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সামর্থ্যের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেই এমডি নিয়োগ দেওয়া উচিত। তবে এই মানদণ্ডে যদি অভ্যন্তরীণ যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া যায়, তবে তাদের পাশ কাটিয়ে বাইরে থেকে প্রার্থী খোঁজার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সুশাসনের সংকট নিরসনে বাইরে থেকে নেতৃত্ব আনাই একমাত্র সমাধান—এমন ধারণার বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কার্যকর তদারকি এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দূর করা সম্ভব। নেতৃত্বের উৎস পরিবর্তনের চেয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড ও জবাবদিহি শক্তিশালী করাই বেশি ফলপ্রসূ।

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগনীতি এমনভাবে সাজানো উচিত, যা একদিকে সর্বোচ্চ পেশাগত মান নিশ্চিত করবে এবং অন্যদিকে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক মেধা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন ঘটাবে। এ ক্ষেত্রে ডিএমডিদের মধ্য থেকে যোগ্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।