১৯০ শিশু হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কেনিয়ার ধর্মীয় নেতা

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:১৩ এএম
শেয়ার করুন:
১৯০ শিশু হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কেনিয়ার ধর্মীয় নেতা

কেনিয়ার বহুল আলোচিত তথাকথিত ‘ডুমসডে কাল্ট’ বা প্রলয়বাদী ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রধান পল ম্যাকেঞ্জিকে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির একটি আদালত। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে একজন বাদে বাকি ১৯০ জনই নিষ্পাপ শিশু। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার আদালতে দীর্ঘ আট ঘণ্টাব্যাপী রায় পাঠকালে বিচারক ডায়ানা মোচাচে এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় ম্যাকেঞ্জির সহযোগী আরও ২৮ জন ধর্মীয় নেতাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে শুনানিকালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।

আদালতের বিবরণ ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পল ম্যাকেঞ্জি নিজেকে ‘যিশুর মুখপাত্র’ হিসেবে দাবি করতেন। তিনি অনুসারীদের প্ররোচিত করতেন যে, দীর্ঘ অনাহারে মৃত্যুবরণ করলেই কেবল পৃথিবীতে পাপমুক্ত হয়ে সরাসরি যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব। এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তিনি অনুসারীদের সন্তানদের খাবার না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য করতেন। কেউ অনাহার বা উপবাসে রাজি না হলে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। মৃত শিশুদের জঙ্গলে গণকবর দেওয়াকে তারা বলত ‘বিয়ে’—যার অর্থ ছিল ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মিক মিলন।

এছাড়া ম্যাকেঞ্জি আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে ‘অশুভ’ হিসেবে প্রচার করতেন এবং অনুসারীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখতেন। 

তার প্রতিষ্ঠিত ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল মিনিস্ট্রিজ’ একসময় কেনিয়াজুড়ে বিস্তার লাভ করেছিল। ২০১৯ সালে তাদের মূল গির্জা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি অনুসারীদের নিয়ে মোম্বাসার উপকূলবর্তী শাকাহোলা জঙ্গলে চলে যান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ওই গভীর জঙ্গল থেকে অগভীর গণকবর খুঁড়ে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং ম্যাকেঞ্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত বহু মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে, এখনও অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজনহারা পরিবারগুলো। নিজের ছয় সন্তানকে হারানো স্টিফেন মুইতি জানান, দোষীরা শাস্তি পাওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দেখছেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় তার সাবেক স্ত্রীও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

ম্যাকেঞ্জি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার হরণসহ আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। হত্যার অভিযোগে এটিই তার বিরুদ্ধে প্রথম রায়। আগামী ৬ নভেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাজার পরিমাণ ঘোষণা করবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।