এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
একই মায়ের গর্ভে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। আর ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল মেধার স্বাক্ষরও একই—তিনজনই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ‘ট্যালেন্টপুলে’ বৃত্তি পেয়েছে। বরগুনার সদর উপজেলায় একই পরিবারের তিন যমজ বোন অন্বেষা হালদার, অঙ্কিতা হালদার ও অনুষ্কা হালদারের এই বিরল কৃতিত্ব এখন স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মেধাবী এই তিন বোনের বাড়ি বরগুনা সদরের মনসাতলী গ্রামে। তাদের বাবা চিন্ময় হালদার বরগুনার গৌরীচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং মা কাজলী রানী গৌরীচন্না হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মা-বাবার শিক্ষকতা ও পারিবারিক শিক্ষার অনুকূল পরিবেশই তিন বোনের এই মেধা বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় গৌরীচন্না হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দারুণ সাফল্য এসেছে। এ বছর এই বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ১১ জনই বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে যমজ তিন বোনসহ ৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এমন গৌরবোজ্জ্বল ফলাফলে বিদ্যালয়জুড়ে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া। তবে সব অর্জনকে ছাপিয়ে সবার মুখে মুখে এখন ঘুরছে তিন যমজ বোনের এই অনন্য সাফল্যের গল্প।
মেয়েদের এমন অসামান্য সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা চিন্ময় হালদার বলেন, "ছোটবেলা থেকেই ওদের পড়াশোনার প্রতি আলাদা এক টান রয়েছে। পড়ার জন্য কখনো ওদের চাপ দিতে হয়নি। বিদ্যালয় থেকে ফিরে নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নিয়ে ওরা নিজেরাই পড়তে বসে যেত। শুধু মুখস্থ করার চেয়ে প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে শেখার চেষ্টা করে ওরা। তিন বোনের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে একটি সুন্দর ও সুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে। একজন কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে বাকি দুজন তাকে বুঝিয়ে দেয়। এভাবেই ওরা একে অপরের সবচেয়ে বড় সহপাঠী ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।"
পড়াশোনার পাশাপাশি তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "মোবাইল ফোন কিংবা টেলিভিশনে অযথা সময় নষ্ট না করে ওরা অবসর সময়ে বই পড়ে বা ছবি আঁকে। এই অর্জনের পেছনে ওদের মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা কৃতজ্ঞ। বাবা হিসেবে আজ আমি অত্যন্ত গর্বিত।"
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাইনুল ইসলাম তিন বোনের প্রশংসা করে বলেন, "অন্বেষা, অঙ্কিতা ও অনুষ্কা অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও কঠোর পরিশ্রমী। ক্লাসে সব সময় তারা মনোযোগী থাকত এবং যেকোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে বারবার শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নিত।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এই অর্জনকে স্মরণীয় উল্লেখ করে বলেন, "একই পরিবারের যমজ তিন বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বিরল ও গৌরবময় অধ্যায়।" বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াসী মতিনও এই অর্জনকে পুরো এলাকার জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদ্য ঘোষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৭৫৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৩৫৬ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৩৬৩ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১৬ জন ও সাধারণ গ্রেডে ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
বান্দরবান | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁ | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।