এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ভারতের আসাম রাজ্য থেকে গত দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি) কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষিত নাগরিকের সংখ্যা মাত্র ১৯৩ জন। আসাম রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস* এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিধানসভার অধিবেশনে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের এক প্রশ্নের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—আনুষ্ঠানিক ‘ডিপোর্ট’ (বহিষ্কার), ‘সেন্ট ব্যাক’ (ফেরত পাঠানো) এবং ‘এক্সপেলড’ (বিতাড়ন)।
সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
বিধানসভায় এই তথ্য উপস্থাপনের আগের দিনই আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গুয়াহাটি হাইকোর্টের ২৭টি রায় বাতিল ঘোষণা করেন। ওই রায়গুলোতে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক একতরফাভাবে (অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বা এক্স-পার্টে) দেওয়া ‘বিদেশি’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, নাগরিকত্ব নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক বিষয় এবং এটি অবশ্যই সম্পূর্ণ ন্যায্য, আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হতে হবে। এরপর আদালত মামলাগুলো পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠায়।
পুশ ব্যাক নীতি ও ১৯৫০ সালের আইন প্রয়োগ
সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক ‘ডিপোর্টেশন’ বা বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই শেষে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়। তবে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আসাম সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সমন্বয় ছাড়াই চিহ্নিত ব্যক্তিদের জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর নীতি গ্রহণ করে।
পরবর্তী সময়ে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা ‘ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট–১৯৫০’ পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেয়। একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করে এই আইন প্রয়োগ করা শুরু হয়, যার আওতায় চিহ্নিত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়। গত বছর এই আইনের আওতায় ৬৭ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও জেলাভিত্তিক বিবরণ
সীমান্ত পার করা ১ হাজার ৬৭৯ জনের মধ্যে ১৯২ জন ট্রাইব্যুনাল ঘোষিত বিদেশি এবং মরিয়ম বেগম নামে এক শিশুকে তার মায়ের (যিনি একজন ঘোষিত বিদেশি) সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।
১৯৫০ সালের আইনের আওতায় বহিষ্কৃত ৬৭ জন ঘোষিত বিদেশির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মধ্য আসামের নগাঁও জেলার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে কোকরাঝাড়ের ১৬ জন, বারপেতার ৭ জন, চিরাং ও কারবি আংলংয়ের ৪ জন করে, ডিমা হাসাও ও হোজাইয়ের ৩ জন করে, কামরূপ (গ্রামীণ) ও ধুবড়ির ২ জন করে এবং বঙ্গাইগাঁও, তামুলপুর, উদালগুড়ি, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, লখিমপুর ও হাইলাকান্দি জেলার ১ জন করে বাসিন্দা রয়েছেন।
অন্যদিকে, বাকি ১২৬ জন ঘোষিত বিদেশিকে ‘রিপ্যাট্রিয়েটেড’ বা ‘সেন্ট ব্যাক’ শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় দরং জেলার এক শিশু কন্যাও রয়েছে, যাকে ২০২৫ সালের মে মাসে তার মা মানিকজানের সঙ্গে পুশ ব্যাক করা হয়েছিল।
আইনি আপিলের বর্তমান অবস্থা
আদালতে আপিল সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আসাম সরকার জানায়, গুয়াহাটি হাইকোর্ট বা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কোনো আপিল বিচারাধীন থাকলে সাধারণত কোনো চিহ্নিত ব্যক্তিকে প্রত্যাবাসন করা হয় না। তবে যাদের ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে, তাদের কেউ পূর্বে আপিল করেছিলেন কি না, সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
পাবনা | ১৪ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ জুলাই, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ | ১৪ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।