রাঙ্গাবালীতে জমি নিয়ে বিরোধ: রাতের আঁধারে কবরস্থান ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে একটি পারিবারিক কবরস্থান ভাঙচুর, গাছপালা নিধন এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—তিল্লা গ্রামের মৃত মকরম আলী খলিফার ছেলে ছত্তার খলিফা, সুলতান খলিফার ছেলে সাইদুল খলিফা ও মিজানুর খলিফা এবং লাল মিয়া খলিফার ছেলে তৈয়ব খলিফা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিল্লা গ্রামের মৃধা বাড়ির লোকজন প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে জমি ক্রয় করে এবং প্রায় ৫০ বছর আগে এওয়াজ বদলের (বিনিময়) মাধ্যমে প্রাপ্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন। ওই জমির রেকর্ড ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে হওয়া রোয়েদাত অনুযায়ী তারা জায়গাটি ভোগদখল করছেন। দীর্ঘ বছর ধরে তারা এই জমির একটি অংশ পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন, যেখানে তাদের পূর্বপুরুষদের দাফন করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে সেখানে ‘মৃধা বাড়ির কবরস্থান’ নামে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হলে প্রতিপক্ষ খলিফা পরিবারের সাথে বিরোধ চাঙ্গা হয়।
অভিযোগকারী শাকিল মৃধা জানান, শুক্রবার শেষ রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে হামলা চালায়। তারা কবরস্থানের সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে এবং চারপাশের গাছপালা কেটে সাবাড় করে দেয়। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কবর খুঁড়ে দখলের চেষ্টা চালায় তারা। বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী শহিদুল মৃধা বলেন, “আমরা এই জমি কিনে ঘরবাড়ি করে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করছি। কবরস্থানে আমাদের বাবা-চাচাদের কবর রয়েছে। এখন তারা অন্যায়ভাবে জমি দাবি করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে এবং পবিত্র কবরের অসম্মান করছে। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মৃধা জানান, ভোররাতের এই তাণ্ডবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে কবর খোঁড়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি নিয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ