এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাম বললেই আজ সবার আগে যে শব্দটি ভেসে ওঠে,তা হলো গদখালী-ফুলের রাজ্য। চারদিকে রঙিন ফুলের সমারোহ,ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ওঠা ফুলের বাজার,আর হাসিমুখে শ্রমে ব্যস্ত কৃষক-সব মিলিয়ে গদখালী যেন প্রকৃতি ও মানুষের যৌথ সাফল্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস।
শুরুর গল্প গদখালীর ফুল চাষের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এ অঞ্চলের কয়েকজন প্রগতিশীল কৃষক প্রথমবারের মতো ধান ও পাটের বিকল্প হিসেবে ফুল চাষে হাত দেন। শুরুটা ছিল গাঁদা ও গোলাপ দিয়ে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও দ্রুত ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।এভাবেই ধীরে ধীরে একটি গ্রামীণ উদ্যোগ রূপ নেয় জাতীয় পর্যায়ের ফুল শিল্পে।
ভৌগোলিক বিস্তার
গদখালীর ফুল বাজার ও সংলগ্ন চাষ এলাকা ঝিকরগাছা–বেনাপোল সড়ক ঘেঁষে প্রায় ৪–৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যজুড়ে বিস্তৃত। বাজারকেন্দ্রিক অংশের গড় প্রস্থ ৫০০ থেকে ৮০০ মিটার। গদখালী ও আশপাশের ইউনিয়ন মিলিয়ে বর্তমানে হাজার হাজার বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে,যা এলাকাটিকে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত করেছে।
ফুলের বৈচিত্র্য
গদখালীর মাঠে গেলে চোখে পড়ে নানা রঙ ও ঘ্রাণের ফুল-গাঁদা,গোলাপ, রজনীগন্ধা,জারবেরা,গ্ল্যাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী,টিউলিপ ও অর্কিড।
দেশের উৎসব, বিয়ে,রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান,ধর্মীয় আচার-সবখানেই গদখালীর ফুলের ব্যাপক চাহিদা।
অর্থনীতি ও জীবিকায় প্রভাব
ফুল চাষ আজ গদখালীর প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।এখানে শুধু কৃষকরাই নন-পরিবহণ শ্রমিক,পাইকার,খুচরা ব্যবসায়ী,নার্সারি মালিক, এমনকি প্যাকেজিং শ্রমিক পর্যন্ত হাজারো মানুষ এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।বিশেষ করে নারী ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্র আমূল বদলে গেছে।
বাজার থেকে রাজধানী
প্রতিদিন ভোররাতেই গদখালীর পাইকারি ফুল বাজার জমে ওঠে। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে ফুল চলে যায় ঢাকা,চট্টগ্রাম,খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে। গদখালী এখন কার্যত দেশের ফুল সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র।
পর্যটনের নতুন দিগন্ত
শীত মৌসুমে ফুলের ভরা মৌসুমে গদখালী হয়ে ওঠে এক অপার সৌন্দর্যের রাজ্য। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন ফুলের মাঠ দেখতে, ছবি তুলতে, প্রকৃতির রঙে হারিয়ে যেতে। ফলে ধীরে ধীরে গদখালী একটি সম্ভাবনাময় কৃষি পর্যটন এলাকা হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।
গদখালী প্রমাণ করেছে-পরিকল্পনা,পরিশ্রম ও সঠিক উদ্যোগ থাকলে গ্রাম থেকেই গড়ে উঠতে পারে জাতীয় অর্থনীতির শক্ত ভিত। ফুলের সুবাসে মোড়ানো এই জনপদ আজ শুধু যশোরের গর্ব নয়, বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
রাঙ্গামাটি | ২৯ জুন, ২০২৬
কুমিল্লা | ২৯ জুন, ২০২৬
রাজবাড়ী | ২৯ জুন, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ | ২৯ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।