ফুলবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আশিকের ওপর হামলা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর বাজারে (টাউন বাজার) শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঘোড়ার প্রতীকের সমর্থক আশিক (৩৫)কে নির্মমভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে বাজারের রউফের চায়ের স্টলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই আলামিন নামের দুই যুবক ডেকে নিয়ে কাঠের চলা (টুকরা) দিয়ে আশিকের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চায়ের স্টল মালিক রউফ জানান, জুমার নামাজ শেষে আশিক টাউন বাজার জামে মসজিদের সামনে বসে ছিলেন। সেখান থেকে আলামিন তাকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে স্টলে ডেকে নেয়। আশিক বসার পর আলামিন প্রশ্ন তোলে এত ঘোরাঘুরি করতেছেন কেন?এই কথা বলেই হাতে থাকা কাঠের টুকরা দিয়ে আশিকের মাথায় আঘাত করে। আঘাতে আশিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি দোকানের সামনে বসান।
স্হানীয় জানা যায়, আল আমিন ও আল আমিন তারা দুজনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান মিলনের মামাতো ভাই। আশিক স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন এর ঘোড়া মার্কার বালিয়ান ইউনিয়নের সভাপতি। সেই কারণেই মূলত হামলা করে। সে কেন ঘোড়া মার্কার নির্বাচন করে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেনাবাহিনীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা ঘোড়ার প্রতীকের সমর্থকরা আহত আশিককে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এক বিবৃতিতে জানান, এই হামলার সঙ্গে তাদের মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন কিংবা দলীয় কোনো কর্মী-সমর্থকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে, আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন কড়া ভাষায় বলেন,আমি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিই না। আমার লোকজনের ওপর বাড়ি বেঁধে হামলা করা হয়েছে। এই হামলার বিচার অবশ্যই হতে হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি, ময়মনসিংহঃ