ট্রাম্পকে বন্দি করার হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধজাহাজ। ইরানের জলসীমার খুব কাছেই এই রণতরী মোতায়েন করায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও তাত্ত্বিক হাসান রহিমপুর আজগাদি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন, তেহরানের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বন্দি করা। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নিয়ে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প মাদুরোর সাথে যা করেছিলেন, ঠিক একইভাবে তাকেও বন্দি করা উচিত।’
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক ও চূড়ান্ত।
তিনি জানান, গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এখন আরও শানিত। রেজা তালায়ি-নিক বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই আগের চেয়ে বড় ব্যর্থতা ও পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।’
অন্যদিকে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি তেহরানের প্রতিরক্ষা নীতি বা কূটনীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানাই না, আবার কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও সরে আসিনি।’
দেশ রক্ষায় ইরানের জনগণ ও সরকারের দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদেশি শক্তির ভয়ভীতি ইরানের আত্মরক্ষার সংকল্পে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারবে না।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ