থানচিতে বনভূমি পুনরুদ্ধারে সিবিও সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বান্দরবানের থানচিতে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Scaling up Forest Landscape Restoration in Chittagong Hill Tracts’ প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) সদস্যদের জন্য ‘সংগঠন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থানচি সদরের স্থানীয় এনজিও ‘হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’-এর হলরুমে এই কর্মশালার সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আইআইইডি (IIED) ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (UK International Development)-এর অর্থায়নে অরণ্যক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস)।
অরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস কে জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, বিএনকেএস-এর পার্টনার প্রোগ্রাম লিড সুগত চাকমা এবং সমাজসেবা সুপারভাইজার আমির হোসেন। এছাড়া অরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মংহ্লাছিং মারমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে জহির উদ্দিন বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ কেবল এই অঞ্চলের নয়, বরং পুরো দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে দক্ষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা গেলে বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তাদের জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সিবিও সদস্যদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিবিও সদস্যরা নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে বাস্তবমুখী ধারণা পাবেন, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি সম্মান রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভূমি পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে কাজ করছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সিবিও সদস্যদের সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা, যেন তারা নিজেরাই বন সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারেন।"
দুই দিনের এই প্রশিক্ষণে সংগঠন পরিচালনা, নেতৃত্ব উন্নয়ন, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারের কৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী পাড়া উন্নয়ন কমিটির (সিবিও) সদস্যরা এ ধরনের আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে সহায়তা ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ