রাজবাড়ী দুটি আসনে ভোটের মাঠে বিএনপি জামাত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমূখী লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলার দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রচা?

মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ
Feb 3, 2026 - 19:59
Feb 3, 2026 - 19:59
রাজবাড়ী দুটি আসনে ভোটের মাঠে বিএনপি জামাত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমূখী লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলার দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রার্থীরা ছুটছেন বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলায়।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম ছুটে চলেছেন তারা। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থী ও সমর্থকদের বাড়ছে পদচারণা। তারা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও।

পোস্টারবিহীন নির্বাচনে ব্যানার, ফেস্টুন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে চলছে প্রচার। আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।

রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসনের চার প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএন?পি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয়পার্টির জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস (গোলাপ ফুল) লড়ছেন।

রাজবাড়ী-১ আসনে দুটি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মোট ভোটার ?রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫। এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম। প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি প্রার্থী থাকলেও ঘরে বসে নেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। তবে ভোটারদের শঙ্কা- বিএনপির দুটি গ্রুপ সক্রিয় না হলে ভোটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে। সুযোগ কাজে লাগাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টিও ভোটের মাঠে নামলেও তেমন কোনো প্রভাব নেই।

রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ৯ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। তাদের মধ্যে বিএনপি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি মো. নাসিরুল হক সাবু (কলস), ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জামিল হিযাজী (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. সফিউল আজম খান (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের জাহিদ শেখ (ট্রাক), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কাজী মিনহাজুল আলম (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মোহা. আব্দুল মালেক (হাতপাখা), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মো. আব্দুল মালেক (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্যা (ফুটবল)। এ আসনে তিনটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখা রয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন।

এ আসনে দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠে থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী হারুন-অর রশীদকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপির দুটি ধারার রাজনীতিকে প্রতিটি নেতার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এক কাতারে আনতে সক্ষম হন। এতে তার অবস্থান শক্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন অসুস্থ ও মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিত সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় তার সঙ্গে নেই বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে তিনি মাঠে না থাকলেও তার মেয়ে ফারজানা হক অনি ভোট প্রার্থনায় নেমে পড়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন দিলেও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারেনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলে ফাঁকা মাঠে গোল দিতেন বিএনপির প্রার্থী। তবে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow