জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ
কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতাবালিয়াকান্দিতে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ ?
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজারে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জেলা পরিষদের কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে এই নির্মাণ কাজ চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাঝে মধ্যে লোকদেখানো বাধা দেওয়া হলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই পুনরায় পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের মালিকানাধীন নারুয়া বাজারের অত্যন্ত মূল্যবান একটি জায়গা দখল করে নারুয়া গ্রামের মৃত হানিফ আলী শেখের ছেলে সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণ করছেন। জেলা পরিষদের নিচু জমি বালি দিয়ে ভরাট করে সেখানে তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। ইতিমধ্যে মাটির নিচের তলা এবং ওপরের দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ পর্যায়ে। জনসমক্ষে সরকারি জমি দখল করে এভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে দেখা যায়, নারুয়া বাজারে জেলা পরিষদের ওই জমিতে সিরাজুল ইসলাম বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা কয়েকবার এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার ২-৩ দিন পরই আবারও নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এভাবে বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন নির্মাণকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, "আমি আমার লিজ নেওয়া জমিতে ভবন তুলছি।" তবে ভবন নির্মাণের বৈধ কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। বরং অনেকটা দম্ভের সাথেই তিনি বলেন, "সব ম্যানেজ করেই আমি কাজ করছি।"
রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হুমায়ন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, "বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। খবর পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।" তবে পুনরায় কাজ শুরুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে পুনরায় কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলতে বলেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বিষয়টি জেলা পরিষদকে আগেই জানানো হয়েছিল। জমিটি পরিমাপ করার একটি নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পত্তি এভাবে দখল হয়ে যাওয়া কেবল প্রশাসনের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। দ্রুত ভবন নির্মাণ কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে এই মূল্যবান সম্পদ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
What's Your Reaction?
মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ