চাঁদাবাজি না ছাড়লে কমপ্লিট লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের
চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এই অপকর্ম থেকে সরে আসবে না, তাদের জন্য কোনো রাখঢাক ছাড়াই ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ অপেক্ষা করছে।
রোববার (তারিখ উল্লেখ সাপেক্ষে) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে চাঁদাবাজি নামের এক নতুন পেশা জেঁকে বসেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, চাঁদাবাজিকে আমরা ঘৃণা করি। এটি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট কাজ।’
জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি কেউ চাঁদাবাজের ভাই, বাবা, মা, সন্তান বা স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে রাজি আছেন?’ চাঁদাবাজদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আজকের জনসভা থেকে অনুরোধ করছি, ভালো পথে ফিরে আসুন। আপনারা ফিরে এলে আমরা আপনাদের হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেব, ইনশা আল্লাহ। কিন্তু যদি চাঁদাবাজি বাদ না দেন, তবে আমাদের পক্ষ থেকে লাল কার্ড নিশ্চিত।’
জনগণের বিজয় ও ফ্যাসিবাদের অবসান
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনগণের বিজয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই জনগণের বিজয়। জনগণ বিজয়ী হলেই আমাদের বিজয় অর্জিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, দেশে যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সেটাই জামায়াতের লক্ষ্য। দেশের মানুষের টাকায় কেনা অস্ত্রে আর কোনো মানুষের প্রাণ যাক, তা আমরা চাই না। ‘বস্তাপচা রাজনীতি’ আর দেখতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে তারা ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়।
উন্নয়ন ভাবনা ও জবাবদিহিতা
বেকার সমস্যা সমাধানে জামায়াতের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তরুণদের কেবল বেকার ভাতা দিয়ে বসিয়ে রাখতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, কারণ কারিগরের হাত কারও দয়ার অপেক্ষা করে না।’
নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মা-বোনদের মর্যাদা আমাদের কাছে জীবনের চেয়েও বেশি। তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে।’
এছাড়া সুশাসন নিশ্চিতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাস পরপর জনগণের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
যাত্রাবাড়ীর ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি
জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর ত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীতেই সবচেয়ে বেশি গণহত্যা চালানো হয়েছে। দেশসেবার সুযোগ পেলে আমরা সবার আগে যাত্রাবাড়ীবাসীর এই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করব।’
আগামী ১২ তারিখের (নির্বাচন বা ভোট গ্রহণ প্রসঙ্গ) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা জনগণের ভাষা বোঝে না, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের উচিত জবাব দেবে। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আজাদি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ