গোদাগাড়ীতে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা

সেলিম সানোয়ার পলাশ, গোদাগাড়ী প্রতিনিধি, রাজশাহীঃ
Jan 17, 2026 - 14:43
গোদাগাড়ীতে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিতে রাজি হয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারগুলোতে ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কার্যত উধাও। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে ধরনা দিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গোদাগাড়ীতে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এখানকার অধিকাংশ পরিবার রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ফলে গ্যাস সংকটে অনেক পরিবারে নিয়মিত রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হোটেল থেকে খাবার কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরণের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

গ্যাস না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও বেকারির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্যাসের অভাবে উপজেলার বেশীর ভাগ এলাকার চায়ের দোকান ও হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গোদাগাড়ী ডাংপাড়া এলাকার চা বিক্রেতা কাজল আক্ষেপ করে বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় আমার চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। দোকান বন্ধ থাকলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়ে।”

স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, “এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতেই এখন অনেক টাকা গুনতে হচ্ছে। আবার টাকা নিয়ে গিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। রান্না করা নিয়ে এখন সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।”

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট কারসাজি করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চায়ের দোকানদার জানান, গ্যাস ব্যবসায়ীরা পরিচিতদের কাছে গোপনে চড়া দামে গ্যাস বিক্রি করছেন, অথচ সাধারণ ক্রেতাদের ‘গ্যাস নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং এটি মূলত ব্যবসায়ীদের তৈরি একটি কৃত্রিম সংকট। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, আমদানি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের তদারকির অভাব সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

গোদাগাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ দ্রুত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংকট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow