দৈনিক খোলাচোখে সংবাদ প্রচারের পর দের যুগের অপেক্ষার অবসান: অবশেষে রাস্তা পেয়ে হাসি ফিরলো সিরাজ মিয়ার পরিবারের মুখে

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
Feb 6, 2026 - 23:27
Feb 6, 2026 - 23:27
দৈনিক খোলাচোখে সংবাদ প্রচারের পর  দের যুগের অপেক্ষার অবসান: অবশেষে রাস্তা পেয়ে হাসি ফিরলো সিরাজ মিয়ার পরিবারের মুখে

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ দের যুগ পর অবশেষে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা পেয়ে মুক্ত আকাশের নিচে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নুরপুর পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত চামু মিয়া সরদারের ছোট ছেলে মোঃ সিরাজ মিয়ার পরিবার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত চামু মিয়া সরদারের ছোট ছেলে মোঃ সিরাজ মিয়ার বাড়ির একমাত্র যাতায়াত পথটি আজ সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকাপোক্ত করা হয়েছে। 

ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আয়াত আলী ও জনপ্রতিনিধি মোঃ কালো মেম্বারের উদ্যোগে, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থায়নে এ কাজ সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১০টায় নুরপুর পূর্বপাড়া কোরিয়ান বাড়ির নতুন রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। রাস্তাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং আশপাশের একাধিক পরিবার ও কৃষকদের জমিতে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আয়াত আলী, জনপ্রতিনিধি মোঃ কালো মেম্বার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ আরিফ মিয়া, মোঃ রাকিবুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ও সাংবাদিক শামীম উসমান গণীসহ স্থানীয় সালিশকারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আয়াত আলী বলেন,

“এই রাস্তাটি দিয়ে কৃষকদের জমিতে যাতায়াতসহ একাধিক পরিবারের চলাচল করতে হয়। জনগণের ভোগান্তি বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকলে আগামী ছয় মাসে এলাকার বাকি প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলোও সংস্কারের চেষ্টা করবো। এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।”

স্থানীয় মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, রাস্তাটির জমি তার মালিকানাধীন ছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি মোঃ হারুনুর রশিদ,এর পরিবারের কাছে জমিটি বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তাদের যাতায়াতের কষ্ট দেখে জমিটি বিক্রি করে দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আজ রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় সত্যিই ভালো লাগছে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ হারুনুর রশিদের বড় ছেলে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা কার্যত অন্ধকার জীবন যাপন করেছি। বাড়ির কোনো রাস্তা না থাকায় নানা হুমকি, ভয়ভীতি ও মামলা-মোকদ্দমার মুখে পড়তে হয়েছে। বহুবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আজ আমরা মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আলহামদুলিল্লাহ।”

অপরদিকে মোঃ রাকিবুল ইসলাম আরো বলেন,

“রাস্তা না থাকার কষ্ট কী, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বোঝে। আমরা চাই না বাংলাদেশের আর কোনো পরিবার এমন কষ্টের শিকার হোক।”

মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, প্রথমে দৈনিক খোলাচোখের সম্পাদক মহোদয় সহ সাংবাদিক শামীম উসমান গণীকে কে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, কারণ এই চ্যানেলে মাধ্যমে যখন আমাদের পারিবারিক রাস্তার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

এরপর থেকেই স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসন সহ বিষয়টি আমলে নিয়ে গুরুত্ব সহকারে এলাকার মধ্যে দীর্ঘ দের যুগ পরে হ্যালো পারিবারিক রাস্তার বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। এজন্য আল্লাহতালার কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। 

এছাড়া এই রাস্তা বাস্তবায়নে যারা পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন সবাইকে ভালো রাখেন।”

উক্ত পরিবারের কর্তা মোঃ সিরাজ মিয়া বলেন,

“১৮ বছর ধরে এই রাস্তার স্বপ্ন দেখেছি। আজ আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে আমি অনেক খুশি আপনারা সবাই আমার পাঁচ ছেলে পরিবারের সকল জন্য দোয়া চাই, তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি রাস্তা আজ নতুন করে জীবন বদলে দিয়েছে আমার পরিবারসহ এলাকার বহু মানুষের। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow