ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরনির্ভরশীল তরুণসমাজ গড়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন তারেক রহমান : মাওলানা শাহজাহান
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরনির্ভরশীল তরুণসমাজ গড়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। গতকাল বাদ আছর খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের জেলা আমীর সৈয়দ আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, অধ্যাপক আবদুল আলীম, এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক এডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি মাওলানা শাহজাহান তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম সংগঠন বিএনপির চেয়ারম্যান জনগণের সামনে দেশের জন্য উন্নয়নের কর্মসূচি প্রকাশ না করে জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে প্রচার করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জামায়াতের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির রশি গলায় বরন করেছেন ; কিন্তু রাজনীতি করবোনা বলে মুছলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়ে যায়নি। মাওলানা শাহজাহান আরও বলেন, সতেরো বছর পর আপনি দেশে ফিরে দলের চেয়ারম্যান হয়েছেন, আপনার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানের সাথে মৃত্যু বরন করেছেন। জুলাই বিপ্লব না হলে, ৫ আগস্ট না ঘটলে আপনি দেশে ফিরতে পারতেন না।
মাওলানা শাহজাহান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির প্রচার করে তারেক রহমান পরনির্ভরশীল জাতি গড়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে দেশের সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা না করে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের বোঝায় পরিণত করার কর্মসূচি প্রচার করে বেড়াচ্ছেন দেশব্যাপী।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী এড.এয়াকুব আলী চৌধুরী তার বক্তৃতায় বলেন, গত চুয়ান্ন বছরে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের অর্থ-সম্পত্তি যাচ্ছেতাইভাবে তছরুপ করেছেন। তারা রাষ্ট্রের সম্পদের কোন হিসাব জনগণের কাছে দেয় নাই। ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীকে যদি আপনারা নির্বাচিত করেন, তাহলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি জনগণের প্রতিটি টাকার হিসাব আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এটা আমার পক্ষেই সম্ভব। কারণ, রাজনীতি আমার পেশা নয়। আমি সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করি। তাছাড়া আমি ব্যবসা করি। আমি যদি এম পি নির্বাচিত হই তাহলে আপনারা আমাকে সেবক হিসেবেই পাবেন। কখনো আপনাদের শাসক হিসেবে আবির্ভূত হবোনা আমি। এসময় খাগড়াছড়িতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় সম্পদ নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওয়াদা করেন তিনি।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউছুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি নূর আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন মিয়াজি, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফারজানা আক্তার, এনসিপির জেলা সেক্রেটারি সুবোধ চাকমা, খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আখতারুজ্জামান ফারুকী, এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক চাইথোই মারমা, এনসিপি নেতা কৌশিক চাকমা প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এগারো দলের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দসহ ১১ দলীয় জোটের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
What's Your Reaction?
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়িঃ