বেগমগঞ্জে প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই চলছে কৃষিজমির মাটি বিক্রি: হুমকিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও ফসল উৎপাদন

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
May 10, 2026 - 19:51
May 10, 2026 - 19:51
বেগমগঞ্জে প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই চলছে কৃষিজমির মাটি বিক্রি: হুমকিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও ফসল উৎপাদন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, নিয়মিত মামলা ও মোটা অংকের অর্থদণ্ড প্রদান সত্ত্বেও থামছে না কৃষিজমির মাটি কাটার মহোৎসব। এক শ্রেণির অসাধু ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এর ফলে ওই অঞ্চলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের মদদে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে ট্রাকযোগে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। আউশ, আমন ও বিভিন্ন রবিশস্যের জন্য উর্বর এই জমির মাটি সরিয়ে ফেলায় কৃষি উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার পথে। 

সচেতন মহলের মতে, এই জনপদের প্রায় সাত লক্ষাধিক মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে কৃষিজমি নষ্ট হতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্যের জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যা পুরো উপজেলার খাদ্য নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের নুরু মিয়া ও বাহাদুরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আলাইয়ারপুর ও বাহাদুরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে বেকু মেশিন দিয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, মাটি বিক্রির অবৈধ অর্থ দিয়ে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশীয় ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে, যা এলাকার জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলাইয়ারপুর ছাড়াও ছয়ানী, রাজগঞ্জ, কাদিরপুর, রসুলপুর, শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নেও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাটি কাটা রোধে প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর। গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ১৯টি মামলা করা হয়েছে এবং প্রায় ২২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা অর্থদণ্ডকে তোয়াক্কা না করেই চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যেখানেই ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষিজমি রক্ষায় আমাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, শুধু প্রশাসনিক জরিমানা দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং কৃষিজমি রক্ষায় তারা কৃষিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow