'আমার পুলিশ, আমার দেশ' প্রতিপাদ্যে কাল শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দীপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) থেকে রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্যারেড:
সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের দৃষ্টিনন্দন অভিবাদন গ্রহণ করবেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মনোনীত পুলিশ সদস্যদের হাতে বিপিএম ও পিপিএম পদক তুলে দেবেন। এরপর তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।
রাষ্ট্রপতির বাণী:
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের ভিত্তি হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সততা। বর্তমান যুগের আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডাটা অ্যানালিটিকস এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের মতো উন্নত প্রযুক্তিতে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার।” বিশেষ করে মব ভায়োলেন্স (গণপিটুনি), কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে পুলিশকে আরও আপসহীন ও কার্যকর ভূমিকা রাখার কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার্তা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের সেবার প্রতীক হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনি সেবা দিতে গিয়ে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণীতে পুলিশ বাহিনীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিশেষ আয়োজন:
এবারের বার্ষিক প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আগামী বছরের নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। ১৩ মে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ