সালথায় গ্রাম্য দাঙ্গা ও বাড়িঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ১০ জন কারাগারে
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য দাঙ্গা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুজনেই এলাকায় প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০টি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এছাড়া দুই শতাধিক বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল থেকে গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী, বালিয়া গট্টি, মেম্বার গট্টি, কসবা গট্টি, দেহার গট্টি ও মীরের গট্টি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আজিজুল খান (২২), আব্দুল হক (৫৫), রহমান মাতুব্বর ওরফে রব্বান মাতুব্বর (৩০), রিয়াজ শেখ (২৫), জাহিদ মোল্যা (৪০), লাবলু মাতুব্বর (৩৫), টুকু মিয়া (৪০), ইশারত শরীফ (৩৩), সুমন মাতুব্বর (২২) এবং সোহেল শেখ (২৪)।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, "এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে আসছিল। গত সোমবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ