কুষ্টিয়ায় কুরআন অবমাননার অভিযোগে মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ওই মাজারের প্রধান খাদেম শামীম আল জাহাঙ্গীর (৪০) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকার ‘কালান্দার বাবা শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’। নিহত শামীম ওই এলাকার মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদেম শামীম জাহাঙ্গীর কর্তৃক পবিত্র কুরআন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও আচরণের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে গতকাল বিক্ষুব্ধ জনতা দরবার শরীফ ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাজারের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে এবং সেখানে অবস্থানরতদের ওপর চড়াও হয়। এতে প্রধান খাদেম শামীম আল জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন— মিরপুর উপজেলার মির্জানগর এলাকার জুবায়ের (৩১), ফিলিপনগর এলাকার জামিরন নেছা (৪০) এবং মো. খোকন হোসেন। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়ে মাজারের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
What's Your Reaction?
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ